গল্প

"আমাদের দেউড়ির উপরিভাগে যে সমস্ত উদ্ভিদ জন্মেছে ধীরে ধীরে - যে মাতাল হাওয়া দোল দিয়ে যায় পেয়ারা গাছের তরুণ পাতায় - তার মতো ভয়ংকর সুন্দর জীবন চাই আমি।" -পৃষ্ঠা ১১ মেহেরুন, প্রিয়তম ফুল। ব‌ইয়ের নাম দেখেই বাস্তব অথবা কল্পিত কোন প্রেমিকার প্রতি পাঠানো চিঠির হেডিং মনে হয়‌। লেখক আতিক ফারুক মুক্তগদ্য লিখেছেন আগে বেশ কয়েকবার। তাঁর রচিত ২৮ টি গদ্যের যোগফল এ গ্রন্থ পড়লে সেই ছাপটা দেখা যায়। নির্ঝর নৈঃশব্দ্যের 'গোলাপচেরা রাতে'র রিভিউতে আমি বলেছিলাম মুক্তগদ্য সাহিত্যের একটি ধারা হলেও তা সম্ভাব্য উৎকৃষ্ট গদ্য কিংবা কবিতার কারখানাও। আতিক ফারুক মুক্তগদ্যের ওয়ার্কশপ থেকে তাঁর গদ্যরীতি তৈরি করেছেন বললে মনে হয় ভুল হবে না। ফ্ল্যাপের কথায় অবশ্য লেখক প্রতিটি গদ্যের আলাদা স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য অনুসন্ধানে নিরুৎসাহিত করেছেন পাঠকদের‌। ব‌ইটি পড়লে কখনো দিনলিপি কিংবা মেহেরুনের প্রতি প্রেমপত্র অথবা লেখকের মনোলোগ মনে হয়। কিছু জায়গায় একটু প্রবচন-প্রবচন ভাব‌ও কি আছে? মেহেরুন একজন নাকি একাধিক, আসলেই এরকম কেউ আছে কিনা তা এখানে অপ্রাসঙ্গিক। সমসাময়িক নানা মাত্রার বিপণ্নতা, হাহাকার, বিষাদময় মনো-সংলাপ আবার কোথাও ঘুরে দাড়ানোর প্রত্যয় খানিকটা দেখা দিয়ে গেছে। আতিক ফারুক রচিত কোন গ্রন্থ পাঠ আমার এই প্রথম। 'মেহেরুন, প্রিয়তম ফুল'এ এক প্রচন্ড প্রেমিকের দেখা পাওয়া যায়। কাছে এসে দুরে সরে সরে যাওয়ার ব্যক্ততাও চোখে পড়ে। কাব্যিক অভিব্যক্তির উপস্থিতি লেখকের গদ্যে বরাবর‌ই প্রকাশ্য। আতিক ফারুকের লেখার হাত ভালো। তবে ‌উক্ত ব‌ইয়ের অপেক্ষাকৃত কম ভালো লাগার দিক তো আছে। কবিতায় আকার, ইঙ্গিত, ভঙ্গিমা এমনকি ক্লিশে প্রয়োগে যদি কবিতালেখক যথেষ্ট প্রতিভার সিগন্যাচার দিতে পারেন তাহলে সেই কবিতা ভবিষ্যতের হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি করে। কিন্তু আতিক ফারুক তো এখানে গদ্য লিখেছেন। তাঁর কিছু গদ্যে ক্লিশের দেখা পেয়েছি। আতিক ফারুক রচিত আরো ব‌ই ভবিষ্যতে পড়ার ইচ্ছে আছে। শেষ করছি লেখকের কিছু লাইন দিয়ে, "পৃথিবীর অভগ্ন দেহে কোনো কথা যথাযোগ্য নয়। যা বলার অধিকার, তা লুন্ঠিত হয়ে আছে। যখন বলতে ইচ্ছে হয় - পাতার সাথে বলি। যেন কয়েক শ কোটি মানুষের মাঝেও আমি কেবল নিঃসঙ্গ, নিস্তরঙ্গ নদী।" -পৃষ্ঠা ৩৭ ব‌ই রিভিউ নাম : মেহেরুন, প্রিয়তম ফুল লেখক : আতিক ফারুক প্রথম প্রকাশ : অক্টোবর ২০২১ প্রচ্ছদ : রাজীব দত্ত প্রকাশক : চন্দ্রবিন্দু প্রকাশন জনরা : গদ্য রিভিউয়ার : ওয়াসিম হাসান মাহমুদ

Comments