একটি বারবিকিউ পার্টি এবং ওরা সাত জন।

Title: একটি বারবিকিউ পার্টি এবং ওরা সাত জন। "আমাদের ছাদে কিন্তু মাঝে মাঝে ঘোড়া দেখা যায়," কয়লায় আগুন ধরাতে ধরাতে সাজীর বলল। "তিন তালার ছাদে ঘোড়া উঠবে কিভাবে? ভার্সিটি যেয়ে গাজা টানা শুরু করছিস? তুই ঘোড়া দেখছিস কোনদিন?" 'নাহ,তবে ডাক শুনছি,আর আমার ছোট খালু নাকি গত পরশু দেখছে,তাই তড়িঘড়ি করে দুইদিন আগেই আমাদের বাসা থেকে চলে গেল। বাসা পুরো ফাঁকা থাকার সুবাদেই তো আজকে বারবিকিউ পার্টি করতেছি।" অনিকের প্রশ্নের জবাব দিলো সাজীর। "বাসা ফাঁকা থাকার জন্য না তুই একা থাকতে ভয় পাস দেখে। আজকে ঘোড়া পাইলে মুরগির বদলে ঘোড়ার বারবিকিউ করবো।" বিদ্রুপের স্বরে বলল স্বনন। "ভাই রাত বিরেতে এইসব নিয়ে মজা করা উচিত না।' একটু ভীত কন্ঠে বলল সাকিব। উপস্থিত ৭ জনের মধ্যে ভূতের ভয় সাকিবেরই সবচেয়ে বেশি। ছেলে বড় হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে গেল কিন্তু এখনো রাতে একা ঘুমাতে পারে না। " তোকেই তো ভূতের মতো লাগতেছে। সেই আসার পর থেকে চাদর মুড়ি দিয়ে আছিস।এতোটাও তো শীত নাই আজকে।" চ্যাটিং করার সময় ফোন থেকে মুখ তুলে অপুর্ব বলল। "ভাই আগুন তো জ্বলে না,১ ঘন্টা ধরে চেষ্টা করতেছি।" "জুত থাকা লাগে বুজছিস?" রেগে সাজীরের হাত থেকে দেশলাই কেড়ে নিয়ে বলল কাব্য। কিন্তু অনেক চেষ্টা করলেও ফলাফল শূন্য। কয়লায় আগুন ধরে না। এবার এই রাগ আরও বেড়ে গিয়ে পড়লো অপুর্ব এর উপরে। "কি ভেজা কয়লা আনছিস অপূর্ব? আগুন ধরে না কেন?" এইসময় কোন কথা না বলে শান্ত এগিয়ে এসে দেশলাইয়ের বাক্স হাতে নিলো এবং ২ মিনিটের মধ্যে কয়লায় আগুন ধরায়ে দিলো। সবাই চিৎকার দিয়ে উঠলেও সাজীর চুপ। ওর কেন জানি মনে হলো শান্ত নিজের চোখ দিয়ে আগুন বের করলো। ধুর এইটা কিভাবে সম্ভব! নিশ্চয়ই ভুল দেখছে। কিন্তু ও এতোক্ষণ চেষ্টা করেও যেইটা পারলো না শান্ত ২ মিনিটে সেইটা কিভাবে করলো? "সাজীর মাংস কই? নিয়ে আসবি না?" স্বননের ডাকে সাজীরের ঘোর ভাঙলো। " হ্যাঁ, নিচে রান্নাঘরে রাখা আছে। অনিক নিয়ে আয় তো যা।" "এই তো নিয়ে আসছি।" ছাদের দরজার কাছে সবাই তাকিয়ে দেখে অনিক মাংস নিয়ে হাজির। ও গেল কখন? একটু আগেই তো এখানে ছিলো। এতো তাড়াতাড়ি নিচে যেয়ে আবার উপরে উঠা তো প্রায় অসম্ভব ব্যাপার। "কিরে তোর উপর সাজীরের ঘোড়ার আত্মা ভর করলো নাকি? তুই নিচে গেলি কখন আর আসলি কখন?" অপুর্ব বলল। "তোর মতো কামচোর নাকি আমি যে সারাদিন ফোন নিয়ে পড়ে থাকব?" "সবাই থাম, কয়লা যথেষ্ট গরম হয়ে গেছে। রাতও হয়ছে অনেক, তাড়াতাড়ি মুরগির পিস গুলা নেটের উপর দে, আমার খাওয়ার সময় হয়ে গেছে।" শেষ কথাটা বলার সময় স্বননের কন্ঠ একটু অন্যরকম শোনালো। আর কেউ খেয়াল না করলেও সাজীর খেয়াল করলো এইটা আর তখনই স্বননের মুখের দিকে তাকালো। ওর দাঁতগুলো গিয়ে একটু বেশি বড় মনে হচ্ছে? ও শুধু মুরগিই খাবে তো? না অন্য কিছু খাবে? আজকে সবার আচরণই কেমন যেন সন্দেহজনক লাগতেছে সাজীরের কাছে। "ধুর হুদাই উল্টাপাল্টা ভাবতেছি," নিজেই নিজেকে বোঝালো সাজীর। তারপর সব আজগুবি চিন্তা বাদ দিয়ে সবার সাথে বারবিকিউ বানাতে মন দিলো। বারবিকিউ প্রায় হয়ে এসেছে। খাওয়ার আগে সবাই ছবি তুলল কয়েকটা। তারপর সবাই খাওয়া শুরু করলো,একেকটা রাক্ষসের মতো খাচ্ছে। সাজীরের তো সবার উপরেই সন্দেহ হচ্ছে। এরা আদৌও ওর বন্ধুই তো? খাওয়ার মাঝে দেখা গেল কোক আনা হয় নাই। সাজীর কাব্যকে বলল," যা নিচে থেকে কোক নিয়ে আয়,তুই একটা কাজও করিস নাই।" কাব্য অন্যসময় হলে তো ঝগড়া করতো ওর সাথে কিন্তু এখন কিছু না বলেই চলে গেল। ১০ মিনিট যায় ২০ মিনিট যায় কাব্যর আসার নাম নাই। এমন সময় সাজীরের ফোন বেজে উঠল। দেখলো কাব্য ভিডিও কল দিছে। সাজীর গালি দিয়ে উঠলো,শালার উপরে আসার নাম নাই আবার ভিডিও কল দিচ্ছে! সাজীর কল রিসিভ করতেই ফোনের ওপাশে থাকা কাব্য বলে উঠলো,"তোদের বারবিকিউ খাওয়া শেষ? " "শেষ মানে? তুই কোক নিয়ে উপরে আসতেছিস না কেন?" সাজীরের পাশ থেকে শান্ত জবাব দিলো। "কোন উপরে যাবো? আমি তো বাসায়। পেট খারাপের জন্য আসতে পারি নাই,তোরা একটা কলও দিস নাই কেউ আমাকে।" কাব্য জবাব দিলো। "মেজাজ খারাপ করাইস না, তুই তো আমাদের সাথেই ছিলি এতোক্ষণ।" সাজীর রেগে গিয়ে বলল। "আরে পাগল হইছিস? এই দেখ আমি আমার বাসায়।" ও চারপাশে দেখাল,আসলেও ও ওর বাসায়। সবার মনে এবার একটু ভীতির সঞ্চার হলো। "তাহলে আমাদের সাথে এতোক্ষণ যে ছিলো সে কে?" সাকিব প্রশ্ন করলো। অনিকের মনে পড়লো সবাই না ছবি তুলছে। ও তাড়াতাড়ি কাব্যর কল কেটে দিয়ে ফোন বের করে ছবি দেখল। একটা ছবিতেও কাব্য নাই। ওর জায়গাটা ফাঁকা। এতো শীতের মধ্যেও সবার শিরদাঁড়া বেয়ে ঘাম গড়িয়ে পড়লো। কোন দূরে যেন ৪/৫ টা শেয়াল ডেকে উঠলো। ওই ডাক শুনেই সাকিব অজ্ঞান হয়ে গেল।সবাই তাড়াতাড়ি করে সব কিছু ফেলে নিচে নামতে লাগলো। আর অজ্ঞান হওয়া সাকিবকে অনিক কোলে করে নিয়ে নিচে নেমে গেল। ওই রাতটা সাজীরদের পাশের বাড়িতে সবাই কাটিয়েছিলো। সাকিবের জ্ঞান ফিরেছিলো ১ ঘন্টা পড়ে। কিন্তু ওই রাতে সবারই জ্বর চলে আসে। ৬জন ছেলের সাথে কাব্যর রূপ নিয়ে কে এসেছিলো তা আজও অজানা। সমাপ্ত বি.দ্র. গল্পের স্থান,কাল,চরিত্র সম্পূর্ণ বাস্তব এবং কাহিনি কিঞ্চিত বাস্তব। Written by: Obik Ashraf

Comments