আমার দুইপুত্রকে আমি দীর্ঘদিন চারবেলার খাবার মুখে তুলে খাইয়েছি। আমার বড়পুত্র নাইনে ওঠা পর্যন্ত একবেলার খাবারও দুই ভাই নিজের হাতে খেয়েছে কিনা সন্দেহ।
আমি প্রচণ্ড সমালোচিত হয়েছি এই ব্যপারটা নিয়ে। যে’ই দেখতো ওরা আমার হাতে খায় সে’ই বলতো
- এত বড় বড় ছেলেকে নিজের হাতে খেতে দাও না। এরা তো কিছু শিখবে না।
আমি হেসে বলতাম
- শিখবে সময় হলে। আমি তো ছোটবেলায় বাচ্চা পালার ট্রেনিং নেই নাই। তারপরেও ওদের বড় করছি না? সময় হলে ওরাও শিখবে।
তবে আমি যে আহ্লাদ দেয়ার জন্য খাওয়াতাম তা না। আমি কাজটা করতাম একটা বিশেষ উদ্দেশ্যে।
সাধারণত বাচ্চারা একা খেলে হয় সবজি খায়না অথবা শুধু মাংস খায়। অথবা ঠিকমত পেট ভরে খায়ও না।
আমি নিজ হাতে তাদের মাছ মাংস সবজি খাওয়ানোর মধ্যে দিয়ে নিজের মনের শান্তি নিশ্চিত করতাম যে, আমার বাচ্চাগুলোর পেট ভরা আছে তাদের সঠিক পুষ্টি সরবরাহ করা হচ্ছে।
দুই পুত্রের খাবার এনে যখন পদ্মাসনে বসতাম তাদের পিতাও "হাতির খোরাক" বলে কটাক্ষ করতো।
যাই হোক আসল ঘটনায় আসি। মানুষ যে কোন life skillই শিখে ফেলে দুই প্রসেসে। এক হচ্ছে যদি তার সেই বিষয়ে interest থাকে, আর দুই হলো, যদি তার জীবনের প্রয়োজনে সেই কাজ করতেই হয়।
আমার ছোটপুত্র One of the best cooks for his age. সে ফ্রিজে থাকা যে কোন ingredient দিয়ে খাবার বানিয়ে ফেলতে পারে এবং সেটা খেতে অসাধারণ হয়। কারন এটা তার interest এর যায়গা। সে রাঁধতে ভালোবাসে।
আর বড়পুত্র কোনদিনই এই বিষয়ে উতসাহী ছিলো না তাই টরন্টো যাবার আগের দিন পর্যন্ত জিজ্ঞেস করেছে
- আম্মু কফি কিভাবে রান্না করতে হয় ?
এমনকি বাসার অন্য কাজেও তার স্কিল জিরো ছিলো।
সেই ছেলেকে one fine morning একটা বাড়ি ভাঁড়া করে বিদেশ রেখে চলে আসি।
ঠিক তার পরেরদিন নিজের রুমকে থাকার যোগ্য করার জন্য আইকিআ থেকে ফার্নিচার কিনে নিজ হাতে assemble করা দিয়ে তার life skill unlock করা শুরু হয়।
ভালো হোক মন্দ হোক প্রায় সেদিন থেকেই নিজের রান্না নিজের করে খেতে হয়।এর মধ্যে সমস্ত মালপত্র গুটিয়ে, ভ্যান ভাঁড়া করে একা একা একবার বাসাও বদল করেছে। আজকে সে বাজার থেকে আস্ত মুরগী কিনে এনে কেটে ছবি পাঠিয়েছে
- আম্মু মুরগী কাটলাম।
সাতদিন জ্বরে ভুগেছে একা একা কিন্তু না খেয়ে তো থাকে নাই। যাই হোক একটা কিছু এরেঞ্জ করেছে।
আমার বাচ্চাটা স্ট্রাগল দেখে আমার কলিজা ব্যথা করে। সারাক্ষন মনে হয় ইস আমি যদি এখনি যেতে পারতাম।
অথচ তাকে আমি একবারও বলতে শুনিনি
- আম্মু আমার কষ্ট হচ্ছে বা আমি পারবো না।
ছেলেকে দেখে বুঝি যে আমার assumption ঠিক ছিলো
যে কোন পরিস্থিতিতে মানুষ বেঁচে থাকাটা ঠিকই শিখে ফেলে.....
আর যে দেখে শিখে সে হয়ত ভুলে যায়, যে একবার ঠেকে শিখে সে জীবনেও ভোলে না।
Moral of the story is
নিজের বাচ্চাকে যথেষ্ট পরিমান যত্ন করেন। মানুষ যাই বলুক তাকে মুখে তুলে খাওয়ান, প্যাম্পার করেন, বুকে জড়িয়ে রাখেন।
এই বাচ্চা একদিন পাট করে বড় হয়ে দূরে চলে যাবে এবং আপনাকে ছাড়া বেঁচে থাকা শিখে যাবে।
কিন্তু বাচ্চাটার অসুখ হলেও আপনি তাকে আর আদর পর্যন্ত করতে পারবেন না........😞
~রাখী নাহিদ
যাই হোক আসল ঘটনায় আসি। মানুষ যে কোন life skillই শিখে ফেলে দুই প্রসেসে। এক হচ্ছে যদি তার সেই বিষয়ে interest থাকে, আর দুই হলো, যদি তার জীবনের প্রয়োজনে সেই কাজ করতেই হয়।
আমার ছোটপুত্র One of the best cooks for his age. সে ফ্রিজে থাকা যে কোন ingredient দিয়ে খাবার বানিয়ে ফেলতে পারে এবং সেটা খেতে অসাধারণ হয়। কারন এটা তার interest এর যায়গা। সে রাঁধতে ভালোবাসে।
আর বড়পুত্র কোনদিনই এই বিষয়ে উতসাহী ছিলো না তাই টরন্টো যাবার আগের দিন পর্যন্ত জিজ্ঞেস করেছে
- আম্মু কফি কিভাবে রান্না করতে হয় ?
এমনকি বাসার অন্য কাজেও তার স্কিল জিরো ছিলো।
সেই ছেলেকে one fine morning একটা বাড়ি ভাঁড়া করে বিদেশ রেখে চলে আসি।
ঠিক তার পরেরদিন নিজের রুমকে থাকার যোগ্য করার জন্য আইকিআ থেকে ফার্নিচার কিনে নিজ হাতে assemble করা দিয়ে তার life skill unlock করা শুরু হয়।
ভালো হোক মন্দ হোক প্রায় সেদিন থেকেই নিজের রান্না নিজের করে খেতে হয়।এর মধ্যে সমস্ত মালপত্র গুটিয়ে, ভ্যান ভাঁড়া করে একা একা একবার বাসাও বদল করেছে। আজকে সে বাজার থেকে আস্ত মুরগী কিনে এনে কেটে ছবি পাঠিয়েছে
- আম্মু মুরগী কাটলাম।
সাতদিন জ্বরে ভুগেছে একা একা কিন্তু না খেয়ে তো থাকে নাই। যাই হোক একটা কিছু এরেঞ্জ করেছে।
আমার বাচ্চাটা স্ট্রাগল দেখে আমার কলিজা ব্যথা করে। সারাক্ষন মনে হয় ইস আমি যদি এখনি যেতে পারতাম।
অথচ তাকে আমি একবারও বলতে শুনিনি
- আম্মু আমার কষ্ট হচ্ছে বা আমি পারবো না।
ছেলেকে দেখে বুঝি যে আমার assumption ঠিক ছিলো
যে কোন পরিস্থিতিতে মানুষ বেঁচে থাকাটা ঠিকই শিখে ফেলে.....
আর যে দেখে শিখে সে হয়ত ভুলে যায়, যে একবার ঠেকে শিখে সে জীবনেও ভোলে না।
Moral of the story is
নিজের বাচ্চাকে যথেষ্ট পরিমান যত্ন করেন। মানুষ যাই বলুক তাকে মুখে তুলে খাওয়ান, প্যাম্পার করেন, বুকে জড়িয়ে রাখেন।
এই বাচ্চা একদিন পাট করে বড় হয়ে দূরে চলে যাবে এবং আপনাকে ছাড়া বেঁচে থাকা শিখে যাবে।
কিন্তু বাচ্চাটার অসুখ হলেও আপনি তাকে আর আদর পর্যন্ত করতে পারবেন না........😞
~রাখী নাহিদ
Comments
Post a Comment